আইসোটোপ, আইসোটেন, আইসোবার ও আইসোমার কী তা নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. আইসোটোপ (Isotope)
যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা একই, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোপ বলে।
🔹 উদাহরণ:
- হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ:
১. প্রোটিয়াম () → ১টি প্রোটন, ০টি নিউট্রন
২. ডিউটেরিয়াম () → ১টি প্রোটন, ১টি নিউট্রন
৩. ট্রিটিয়াম () → ১টি প্রোটন, ২টি নিউট্রন
🔹 ব্যবহার:
আইসোটোপ সাধারণত পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা ও গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: কার্বন-১৪ ফসিলের বয়স নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়।
২. আইসোটোন (Isotone)
যেসব পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোন বলে।
🔹 উদাহরণ:
- কার্বন-১৪ () → ৬টি প্রোটন, ৮টি নিউট্রন
- নাইট্রোজেন-১৫ () → ৭টি প্রোটন, ৮টি নিউট্রন
এদের নিউট্রন সংখ্যা ৮, তাই তারা আইসোটোন।
৩. আইসোবার (Isobar)
যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা (Mass Number) একই, কিন্তু প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোবার বলে।
🔹 উদাহরণ:
- পটাসিয়াম-৪০ () → ১৯টি প্রোটন, ২১টি নিউট্রন
- ক্যালসিয়াম-৪০ () → ২০টি প্রোটন, ২০টি নিউট্রন
এদের ভর সংখ্যা ৪০ হলেও, প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা আলাদা, তাই তারা আইসোবার।
৪. আইসোমার (Isomer)
যেসব যৌগের আণবিক সংকেত (Molecular Formula) একই, কিন্তু গঠন বা বিন্যাস (Structure) ভিন্ন, তাদের আইসোমার বলে।
🔹 ধরন:
-
গঠনগত (Structural) আইসোমার: পরমাণুগুলোর সংযোগ পদ্ধতি ভিন্ন।
উদাহরণ: বিউটেন ()- n-বিউটেন (সোজা শৃঙ্খল)
- আইসো-বিউটেন (একটি শাখা যুক্ত)
-
স্থানগত (Stereoisomer) আইসোমার: পরমাণুর সংযোগ একই থাকে, কিন্তু তাদের স্থান বিন্যাস আলাদা হয়।
উদাহরণ: গ্লৃকোজ ও গ্যালাক্টোজ
সারসংক্ষেপ:
পরিভাষা | প্রোটন সংখ্যা | নিউট্রন সংখ্যা | ভর সংখ্যা | সংযোজন বিন্যাস |
---|---|---|---|---|
আইসোটোপ (Isotope) | ✅ একই | ❌ ভিন্ন | ❌ ভিন্ন | ❌ ভিন্ন |
আইসোটোন (Isotone) | ❌ ভিন্ন | ✅ একই | ❌ ভিন্ন | ❌ ভিন্ন |
আইসোবার (Isobar) | ❌ ভিন্ন | ❌ ভিন্ন | ✅ একই | ❌ ভিন্ন |
আইসোমার (Isomer) | ✅ একই | ✅ একই | ✅ একই | ❌ ভিন্ন |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন